মেকানিক্যাল কিবোর্ড : কিভাবে কাজ করে ? কতোটা উপযোগী ? কোনটি কিনবেন ?

কম্পিউটারে টাইপ করা, কমান্ড লেখা, গেমস খেলার জন্য আমরা কিবোর্ড ব্যবহার করে থাকি। আর সাধারণত আমরা ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি যে কম্পিউটার কিবোর্ড তার কিগুলোর সাইজ এবং আকারের ভিক্তিকে ছোট-বড় হয়ে থাকে। যেমন ল্যাপটপ কির্বোডগুলো যখন আপনি কম্পিউটার শপে কিনতে যাবেন তখন আপনাকে বলতে হবে যে, ভাই ল্যাপটপের কিবোর্ড কিনবো।

তখন দোকানদার আপনাকে যে কির্বোডটি ধরিয়ে দেবে তা হলো একটি সাইজে ছোট আকারের কিবোর্ড, যেখানে ডান দিনে নিউমেরিক সেকশনটি থাকবে না। মানে Num Lock এবং ১ ২ ৩ ৪ এই কিগুলো থাকবে না। তাই একে ল্যাপটপের কির্বোড বলা হয় এর ছোট সাইজের জন্য। আবার দোকানে গিয়ে যদি বলেন যে ভাই আমাকে মাল্টিমিডিয়া কিবোর্ড দিন, তাহলে আপনারকে তারা একটি বিশাল কিবোর্ড ধরিয়ে দেবে, যেখানে নরমাল কিগুলো ছাড়াও মিডিয়া প্লেব্যাক করার জন্য বেশ কিছু আলাদা কি থাকবে।

কিন্তু আজ আমি এগুলো নিয়ে কথা বলতে আসিনি। আজ এসেছি মেকানিক্যাল কিবোর্ড নিয়ে কথা বলতে। কিবোর্ডের “key” এর ধরণ নিয়ে কম্পিউটার কিবোর্ডকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়। তা হচ্ছে মেমব্রেন কিবোর্ড (membrane) এবং মেকানিক্যাল কিবোর্ড (mechanical)। কম্পিউটার কিবোর্ড কেনার সময় খেয়াল করলে দেখতে পারবেন যে দোকানদার আপনাকে বলবে না যে এটা মেমব্রেন না মেকানিক্যাল কিবোর্ড। তো এই মেকানিক্যাল কিবোর্ড কী? চলুন জেনে নেই।


 

মেকানিক্যাল কিবোর্ড কী?

এই প্রশ্নের উত্তরের আগে আসি মেমব্রেন কিবোর্ড কী, মেমব্রেন কিবোর্ডে আপনি যখন টাইপ করবেন তখন কি প্রেস করার কোনো সাউন্ড হবে না এবং প্রেস করার কোনো “ফিল” পাবেন না। সাধারণত একটি ল্যাপটপের বিল্ট ইন কিবোর্ডগুলো এই ধাঁচের হয়ে থাকে। অন্য দিকে মেকানিক্যাল কিবোর্ডগুলো হচ্ছে এর উল্টো। মেকানিক্যাল কিাবোর্ডের কিগুলোর নিচে বাস্তব ফিজিক্যাল সুইচ থাকে যা টাইপ করার সময় বাউন্স খায়, মেকানিক্যাল কিবোর্ডে আপনি অনেকটা টাইপরাইটেরর মতো স্বাদ পাবেন। তো আপনার জন্য এই দুই ধরণের কিবোর্ড নিয়ে এত মাতামাতি করার প্রয়োজন হবে কেন? আপনি যদি কম্পিউটারের পাওয়ার ইউজার হন, বা আমার মতো ব্লগিং করে থাকেন (মানে দিনের ৭০% সময় টাইপিং করেন) বা গেমার হন (কিবোর্ডের উপর চাপ ) তাহলে আপনার চাই একটি মেকানিক্যাল কিবোর্ড।

 

মেকানিক্যাল কিবোর্ড

 

কারণ মেমব্রেন কিবোর্ডে টাইপ করে আপনি যেমন মজাও পাবেন না ঠিক তেমনি আপনার টাইপিং অনেক সময় শুদ্ধও হবে না। আবার মেকানিক্যাল কিবোর্ডে দ্রুত টাইপ করা যায় যা অনেকেই মেমব্রেন কিবোর্ডে খাপ খাইয়ে নিতে পারে না। অধিকাংশ পিসি কিবোর্ডগুলো তিনটি প্লাস্টিক মেমব্রেনস দিয়ে তৈরি করা হয়ে থাকে, যেগুলোর কিয়ের নিচে থাকে রাবারের তৈরি কি শেইপের সুইচ। আপনি যখন একটি কি প্রেস করবেন তখন ওই রাবার সুইচটি মাঝখানের মেমব্রেনটি দিয়ে ছিদ্রের মধ্যে উপরের এবং নিচের মেমব্রেনটির সাথে পুশ করে থাকে, এতে একটি ইলেক্ট্রিক্যাল সার্কিট তৈরি হয় যার মাধ্যমে কিবোর্ডটি তার ইনপুট ডাটাকে কম্পিউটারে পাঠিয়ে  থাকে।

দ্রুত এবং সঠিক ভাবে (accurate) টাইপ করার সুবিধা ছাড়াও মেকানিক্যাল কিবোর্ডের আরো বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে, এদের মধ্যে রয়েছে  অধিক কী লাইফ এবং শক্তপোক্ত কী। কিন্তু মেকানিক্যাল কিবোর্ডের একটি বড় অসুবিধা হচ্ছে এতে টাইপ করলে প্রচুর সাউন্ড হয়। আপনি যদি ফাস্ট টাইপিস্ট হন তাহলে টাইপ করার সময় ফট ফট আওয়াজে আপনার আশেপাশের অনেকেই বিরক্ত হতে পারে।

এছাড়াও ভালো মানের মেকানিক্যাল কিবোর্ডগুলো অনান্য কিবোর্ডের থেকেও দামে বেশি, একটি নরমাল কিবোর্ড আপনি বাজারে ২৫০ টাকা থেকে পেয়ে যাবেন কিন্তু একটি মেকানিক্যাল কিবোর্ড কিনতে গেলে নুন্যতম আপনার ৬০০/৭০০ টাকা পকেটে রাখতে হবে। এর পরেও অফিসের কম্পিউটারগুলোতে দাম বেশি নিলেও সাধারণ কিবোর্ডের থেকে মেকানিক্যাল কিবোর্ডগুলো লাগায়, কারণ অফিসে শব্দ কোনো বেপার না। আর আমার একটি মেকানিক্যাল কির্বোড আমি সেই ২০১৪ সালে ১২০০ টাকা দিয়ে কিনেছিলাম, সেটা এখনো কাজ করে যদিও ময়লা হয়ে গেছে!


 

মেকানিক্যাল কিবোর্ডের সুবিধা

মেকানিক্যাল কিবোর্ডের অনেক সুবিধা রয়েছে, যার কারণে উচ্চমূল্য, বেশি শব্দ, ওজনে ভারী হওয়া স্বত্বেও অধিকাংশ মানুষই মেকানিক্যাল কিবোর্ড ব্যবহার করতে পছন্দ করেন। মেকানিক্যাল কিবোর্ডের মূল সুবিধাগুলো হচ্ছে:

ক) ফিলিং: হ্যাঁ, মেকানিক্যাল কিবোর্ডের মূল সুবিধা হচ্ছে এই কিবোর্ডে টাইপ করে যে “মজা” আপনি পাবেন সেটা অন্য কোনো কিবোর্ডে আপনি পাবেন না। আপনি যদি আগে কখনোই মেকানিক্যাল কিবোর্ডের টাইপ না করে থাকেন তাহলে এই মজাটা আমি এখানে লিখে আপনাকে বোঝাতে পারবো না। মেমব্রেন কিবোর্ডে একটি কি’কে আপনাকে সম্পূর্ণ রূপে চাপতে হয় টাইপ করার সময়; অন্যদিকে মেকানিক্যাল কিবোর্ডে হালকা প্রেস করলেই টাইপিং হয়ে যায়। তবে মেকানিক্যাল কিবোর্ডের Key গুলোর ধরণের উপর এটা নির্ভর করে থাকে। এটা নিয়ে নিচে কথা বলছি।

খ) Key Rollover : মেকানিক্যাল কিবোর্ডের আরেকটি মূল সুবিধা হচ্ছে এটি আপনাকে Key Rollover নামের একটি ফিচার উপহার দিতে পারবে। এটা হচ্ছে একই সাথে আপনি কতগুলো কি প্রেস করতে পারবেন এটা ফিচার। Key Rollover দুই ধরণের হয়ে থাকে। একটি হচ্ছে N-KRO এবং অন্যটি হচ্ছে 6-KRO । 6-KRO তে আপনি একটি ইউএসবি কিবোর্ডে একই সাথে ৬টি কি প্রেস করতে পারবেন, যেমন Ctrl, Alt, Shift, Windows ইত্যাদি কি একই সাথে চেপে রেখে বিভিন্ন কমান্ড আপনি দিতে পারবেন। অন্যদিকে N-KRO গুলো সাধারণত PS/2 পোর্টের হয়ে থাকে এবং থিউরিতে এই কিবোর্ডের সবগুলো বাটন আপনি একই সাথে প্রেস করতে পারবেন এগুলোর সবগুলোই একটি একটি করে আলাদা ভাবে রেজিস্টার হবে। বিশেষায়িত কাজ ছাড়া  N-KRO এর প্রয়োজন পড়ে না।

গ) স্থায়ীত্ব: একটি মেমব্রেন কিবোর্ডের গড় স্থায়ীত্ব থাকে ৫ থেকে ১০ মিলিয়ন কি স্ট্রোক। অন্যদিকে একটি মেকানিক্যাল কিবোর্ডের গড় স্থায়ীত্ব থাকে ৫০ মিলিয়ন কি স্ট্রোক। মানে একটি মেমবেন কিবোর্ডে আপনি ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি বার কি প্রেস করতে পারবেন এমন গ্যারান্টি দেওয়া থাকে, অন্যদিকে একটি মেকানিক্যাল কিবোর্ডে আপনি ৫ কোটি বার কিবোর্ড প্রেস করার গ্যারান্টি পাবেন। যার কারণেই মেকানিক্যাল কিবোর্ডগুলো বেশি টেকসই হয়ে থাকে।


 

মেকানিক্যাল কিবোর্ড কেনার আগে লক্ষ্যনীয় বিষয়সমূহ :

মেকানিক্যাল কিবোর্ডের সুইচ

 

 

একটি মেকানিক্যাল কিবোর্ডের দাম এবং কোয়ালিটি নির্ভর করে সেটার সুইচগুলোর উপর। একটি ৬০০ টাকার কিবোর্ডে যে সুইচ আপনি ব্যবহার করছেন আরেকজন ৪ হাজার টাকার একটি কিবোর্ডে নিশ্চয় ওই একই সুইচ ব্যবহার করবে না! মেকানিক্যাল কিবোর্ডের অনেক ধরণের সুইচ রয়েছে।  একটি মেকানিক্যাল কিবোর্ডের সুইচের ৬ টি ধাপ থাকে এগুলো হচ্ছে:

  • ১) Keycap – প্লাস্টিকের তৈরি ক্যাপ যেটার উপর অক্ষরের প্রিন্ট দেওয়া থাকে
  • ২) Stem – Keycap যেটার উপর বসানো থাকে
  • ৩) Switch Housing – কিবোর্ডের সকল উপাদান যে কেইসের উপর বসানো থাকে
  • ৪) Slider – এটি কি’গুলোকে স্প্রিংয়ের বিপরিতে পুশ করে থাকে
  • ৫) Metal Contact Leaves – কিস্ট্রোট রেজিস্টার করে এগুলো
  • ৬) Spring – slider এর চারিদিকে এটা সাজানো থাকে যেটা একটি কি চাপার পর সেটাকে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে নেয়

অন্যদিকে একটি মেমব্রেন কিবোর্ডের সুইচের ৪টি ধাপ থাকে এগুলো হচ্ছে :

  • ১) Keycap
  • ২) Slider
  • ৩) Silicon membrane layer
  • ৪) PCB with electrical circuits

এই কারণেই একটি মেমব্রেন কিবোর্ডের কীগুলো চাপলে কোনো শব্দ হয় না এবং আপনি একটি স্মুথ টাইপিং এক্সপেরিয়েন্স পান। অন্যদিকে মেকানিক্যাল কিবোর্ডে টাইপ করার সময় মাউস ক্লিকের মতো শব্দ হয়।

এবার আসি মেকানিক্যাল কিবোর্ডের সুইচের ব্যাপারে। নিচের বিভিন্ন মেকানিক্যাল কিবোর্ডের সুইচ এবং সেগুলো কাদের জন্য উপযুক্ত সেটা আমি উল্লেখ করে দিচ্ছি:

 

Cherry:

মেকানিক্যাল কিবোর্ডের সবথেকে জনপ্রিয় এবং ব্যবসা সফল সুইচ হলো এই Cherry MX সুইচ ফ্যামিলি। সুইচটি সর্বপ্রথম ১৯৮৩ সালে বাজারে মুক্তি দেওয়া হয়েছিলো। এই সুইচের ধরণগুলো তাদের রংয়ের নামের উপর নামকরণ করা হয়েছে। Cheryy সুইচ ফ্যামিলির মধ্যে যেগুলো রয়েছে তাহলো:

Cherry MX Red

 

 

মেকানিক্যাল কিবোর্ডের একদম সাধারণ মানের কিবোর্ডে এই Cherry MX Red সুইচগুলো দেওয়া থাকে। যেসকল গেমাররা ফাস্ট একশনযুক্ত এবং নুন্যতম resistance ওয়ালা মেকানিক্যাল কিবোর্ড চান তারা এই টাইপের মেকানিক্যাল কিবোর্ড ব্যবহার করতে পারেন। ট্যাকটিক্যাল ফিডব্যাকের অভাবের জন্য টাইপিস্টদের জন্য এই সুইচের কিবোর্ডগুলো উত্তম নয়।

  • Behavior: লাইনিয়ার
  • Feel: হালকা
  • Actuation Force: ৪৫ গ্রাম
  • Actuation Point: ২ মিলিমিটার
  • Total Travel Distance: ৪ মিলিমিটার
  • Sound Level: কম
  • Rated Lifespan: প্রতি কীতে ৫০ মিলিয়ন কী স্ট্রোক

Cherry MX Black

 

 

ফাস্ট গেমিং এবং Cherry MX red থেকে বেশি resistance যুক্ত কিবোর্ড সুইচ হচ্ছে এই MX Black । এইচ সুইচের স্লাইডারগুলো সিঙ্গেল পিসের হওয়ার কারনে এতে কোনো Hystersis নেই।

  • Behavior: লাইনিয়ার
  • Feel : ভারী
  • Actuation Force: ৬০ গ্রাম
  • Actuation Point: ২ মিলিমিটার
  • Total Travel Distance: ৪ মিলিমিটার
  • Sound Level: অনেক কম
  • Rated Lifespan: প্রতি কীতে ৫০ মিলিয়ন কী স্ট্রোক

Cherry MX Blue

 

 

চেরি এমএক্স ফ্যামিলির সবথেকে উচ্চ শব্দের সুইচ হচ্ছে এটি। টাইপ করার সময় এতে মাউস ক্লিকের মতো শব্দ হয়ে থাকে। এই ধরণের সুইচের কিবোর্ডগুলো টাইপ করার জন্য বেস্ট। শব্দের কারণে আপনি চোখ বন্ধ করেও সঠিক এবং একুরেট টাইপ এই কিবোর্ডগুলোতে করতে পারবেন।

  • Behavior: ক্লিক
  • Feel: ভারী
  • Actuation Force: ৬০ গ্রাম
  • Actuation Point: ২ মিলিমিটার
  • Total Travel Distance: ৪ মিলিমিটার
  • Sound Level: উচ্চমানের
  • Rated Lifespan: প্রতি কী তে ৫০ মিলিয়ন কী স্ট্রোক

Cherry MX Brown

 

 

টাইপিং এবং গেমিং এই দুটি ক্ষেত্রের মিক্সড কিবোর্ড সুইচ হিসেবে Cherry MX Brown বেশ জনপ্রিয়। আপনি যদি টাইপের পাশাপাশি হালকা পাতলা গেমিংও করে থাকেন তাহলে এই সুইচের কিবোর্ডগুলো কিনে নিতে পারেন।

  • Behavior: ট্যাকটাইল
  • Feel: মধ্যম
  • Actuation Force: ৪৫ গ্রাম
  • Actuation Point: ২ মিলিমিটার
  • Total Travel Distance: ৪ মিলিমিটার
  • Sound Level: কম
  • Rated Lifespan: প্রতি কীতে ৫০ মিলিয়ন কী স্ট্রোক

Cherry MX Speed

 

 

দ্রুত গেমিংয়ের জন্য বেস্ট কিবোর্ড সুইচ হচ্ছে এটি। Cherry MX ফ্যামিলির এটাই একমাত্র সুইচ যেটা তার রংয়ের উপর নামকরণ করা হয় নি। এই ধরণের সুইচ বাজারে নতুন সুইচের সাথে প্রতিযোগীতা করার জন্য Cherry বানিয়ে থাকে।

  • Behavior: লাইনিয়ার
  • Feel: হালকা
  • Actuation Force: ৪৫ গ্রাম
  • Actuation Point: ১.২ মিলিমিটার
  • Total Travel Distance: ৪ মিলিটার
  • Sound Level: কম
  • Rated Lifespan: প্রতি কীতে ৫০ মিলিয়ন কী স্ট্রোক

Kailh/Kaihua

Kalihua Electronics এর তৈরিকৃত সুইচগুলোকে Kailh বা Kaihua নামে বাজারে চালান করা হয়ে থাকে। ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত Kalihua Electronics হচ্ছে একটি চাইনিজ প্রতিষ্ঠান যারা Cherry MX সুইচগুলোর ক্লোন বানিয়ে থাকে। ক্লোন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন পার্টনার সংস্থার জন্য কাস্টম কিবোর্ড সুইচ বানিয়ে থাকে। বাজারে অতি কম মূল্যে মেকানিক্যাল কিবোর্ড পেয়ে গেলে অবশ্যই চেক করে নিবেন এগুলো Kailh/Kaihua সুইচের কিনা। বাজারে Kailh Red, Kailh Black, Kailh Brown, Kailh Blue এই মডেলের সুইচ পাওয়া যায়।

 

Razer

গেমিং কিবোর্ড খুঁজতে গিয়ে এই ব্রান্ডের কিবোর্ড গুলো দেখবেন না এমনটি কিন্তু হয় না। ২০১৪ সালে কোম্পানিটি Kaihua কোম্পনির সাথে একত্র হয়ে নিজেরাই নিজস্ব Razer Mechanical Switchs বের করতে থাকে। এছাড়াও বর্তমানে কোম্পানিটি Greetech সহ আরো অন্যান্য বেশ কিছু কোম্পানির সাথে মিলে নিজস্ব সুইচ তৈরি করছে।

 

Razer Green

এই টাইপের সুইচের কিবোর্ডগুলো প্রাথমিক ভাবে টাইপিং এবং গেমিং দুটির জন্যেই উপযুক্ত। এই সুইচটি চেরি এমএক্স এবং Kailh এর সুইচের থেকে একুরেশন পয়েন্টে একটু এগিয়ে রয়েছে।

  • Behavior: ক্লিক
  • Feel: ভারী
  • Actuation Force: ৫৫ গ্রাম
  • Actuation Point: ১.৯ মিলিমিটার
  • Total Travel Distance: ৪ মিলিমিটার
  • Sound Level: উচ্চমানের
  • Rated Lifespan: প্রতি কী তে ৮০ মিলিয়ন কী স্ট্রোক

Razer Orange

Kailh Brown সুইচের প্রায় কার্বন কপি হচ্ছে এই Razer Orange সুইচটি। মূলত গেমিং এবং টাইপিং করার জন্য এই সুইচের কী বোর্ডগুলো আপনি ব্যবহার করতে পারেন।

  • Behavior: ট্যাকটাইল
  • Feel: মধ্যম
  • Actuation Force: ৫৫ গ্রাম
  • Actuation Point: ১.৯ মিলিমিটার
  • Total Travel Distance: ৪ মিলিমিটার
  • Sound Level: কম
  • Rated Lifespan: প্রতি কী তে ৮০ মিলিয়ন কী স্ট্রোক

Razer Opto-Mechanical

গেমিংয়ের জন্য এই সুইচের কিবোর্ডগুলো বেশ ভালো। তবে এই সুইচগুলো নতুন মডেলের হওয়ায় বর্তমানে শুধুমাত্র Razer Huntsman এবং Huntsman Elite কিবোর্ডগুলোতে এই সুইচ আপনি পাবেন।

Razer Mecha-Membrane

 

গেমিং কিবোর্ডের ক্ষেত্রে একদমই নতুন মানের কিবোর্ড সুইচ হচ্ছে এই Razer Mecha-Membrane । Razer কোম্পানিটি একই কিবোর্ডে মেমব্রেন বোর্ডের সফট ল্যান্ড এবং মেকানিক্যালের ক্লিক ফিলকে আনার চেষ্টা করেছে এই সুইচে। এই সুইচটি হচ্ছে একটি মেমব্রেন-মেক্যানিক্যাল মিশ্রণের সুইচ। এবং বর্তমানে শুধুমাত্র Razer Ornata Chroma কিবোর্ডে এই সুইচটি পাওয়া যাবে।

 

Logitech

লজিটেক ব্রান্ডের সুইচগুলো হচ্ছে:

Romer-G Tactile

 

Romer-G Linear

 

SteelSeries

স্ট্রিল সিরিজের সুইচগুলো হচ্ছে:

QS1

Cooler Master

একমাত্র Cooler Master Novatouch TKL ছাড়া বাকি সব কিবোর্ডেতে তারা Cherry MX সুইচ ব্যবহার করে থাকে। Cooler Master Novatouch TKL কিবোর্ডে কোম্পানিটি তাদের মডিফাইড Hybrid Capacitive Switch ব্যবহার করে থাকে। এই সুইচটি হচ্ছে Topre সুইচের একটি মডিফাইড সংস্করণ।

Hybrid Capacitive switch

 


 

অনান্য কোম্পানির সুইচসমূহ

উপরের সুইচগুলো সাধারণ পর্যায়ে বাজারে যেসকল মেকানিক্যাল সুইচের কিবোর্ড পাওয়া যায় তাদের লিস্ট। উপরের সুইচ গুলো ছাড়া আরো কিছু ব্রান্ডের সুইচওয়ালা কিবোর্ড আছে যা সাধারণত বিদেশে আপনি পাবেন। তবুও যখন মেকানিক্যাল কিবোর্ড নিয়ে পোষ্ট লিখছি তখন এই অনান্য কোম্পানির সুইচসমূহকে সংক্ষিপ্ত আকারে আমি নিচে দিয়ে দিলাম।

ব্রান্ড সুইচের নাম বৈশিষ্ট্য
Bloddy LK Libra Orange Clicky
LK Libra Brown Linear
Roccat Roccat Titan Tactile
Tesoro Agile Red Linear
Agile Blue Clicky
Slim Blue Clicky
Slim Red Linear
Matias Matias Quiet Click Clicky
Matias Linear Linear

 

লেআউট

 

কোন সুইচটি আপনি ব্যবহার করবেন সেটা পছন্দ করা হয়ে গেলে এবার আপনি মেকানিক্যাল কিবোর্ডের লেআউটটি নির্ধারণ করতে পারেন। কিবোর্ড কেনার সময় আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী বড় থেকে ছোট যেকোনো লেআউটের মেকানিক্যাল কিবোর্ড আপনি কিনে নিতে পারেন এবং  এখানে আমার কিছুই বলার নেই কারণ এটি সম্পূর্ণ আপনার ইচ্ছের উপর নির্ভর করে।

 

কীক্যাপ

মেকানিক্যাল কিবোর্ড

সুইচ এবং লেআউট পছন্দ করা হয়ে গেলে এবার পরবর্তী যে বিষয়টি আপনার মাথায় রাখতে হবে তা হলো কীক্যাপ। মানে সুইচের উপরে অক্ষরগুলো যে কভারে বসানো থাকে তাকে Keycap বলা হয়। বাজারে বিভিন্ন ধরণের কীক্যাপ টাইপের কিবোর্ড আপনি পাবেন। এদের মধ্যে সবথেকে কমন হচ্ছে ABS Keycaps with Printed / Lasered Legends; এখানে কীক্যাপের উপর অক্ষরগুলো প্রিন্ট করা কিংবা লেজার রশ্মির সাহায্যে লেখা হয়ে থাকে। এই কিবোর্ডগুলো সময়ের সাথে সাথে ব্যবহার করতে করতে একসময় কীক্যাপের উপর থেকে অক্ষরগুলো উঠে যায়। এই সমস্যার সমাধানের জন্য আপনি Double-shot ABS ফিচারের কীক্যাপওয়ালা মেকানিক্যাল কিবোর্ড ব্যবহার করতে পারেন; এখানে সময়ের সাথে সাথে ব্যবহারের জন্য অক্ষরগুলো উঠে যাবে না।

এক্ষেত্রে টেকসইয়ের জন্য আপনি বেছে নিতে পারেন PBT Plastic টাইপের কীক্যাপ গুলো; এটায় রয়েছে হার্ড টেক্সচার যেটা টাইপ করার সময় আঙ্গুল পিছলানোর সম্ভাবনা কম থাকে এবং এগুলো অনেকদিন পর্যন্ত নতুন চকচক ভাব বজায় থাকে। অন্যদিকে আপনি যদি লাইটিং যুক্ত মেকানিক্যাল কিবোর্ড কিনেন তাহলে সেখানে আপনি পাবেন transparent lasered legends টাইপের কীক্যাপ। এগুলোতে সাধারণত ABS ধাঁচের কীক্যাপ ব্যবহার করা হয় আর টান্সপারেন্ট প্রযুক্তির লেজার রশ্মি দিয়ে অক্ষরগুলো প্রিন্ট করা হয়ে থাকে। এগুলো বেশি ডিউরেবল নয়  তবে এগুলো অন্ধকারে বেশ জটিল লাগে।


 

কাস্টমাইজেশন

মেকানিক্যাল কিবোর্ড

 

একটি মেকানিক্যাল কিবোর্ড কেনার একদম শেষ ধাপ হচ্ছে এই কাস্টমাইজেশন। একটি মেকানিক্যাল কিবোর্ড কেনার আগে যে সকল বেসিক জিনিসসমূহের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হয় তা আমি উপরে লিখে দিয়েছি। এবার আপনার প্রয়োজন এবং চাহিদা অনুযায়ী মেকানিক্যাল কিবোর্ডের কাস্টমাইজেশনটি আপনি বেছে নিন। যেমন লাইটিং, মাল্টিমিডিয়া কি, ওজনে হাল্কা বা ভারী, রং, দাম ইত্যাদি।

  • Share on :


POST COMMENT

For post a new comment, You need to login first.

COMMENTS (0)

No comments yet, Be the first :)